ছোট বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম । অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন

বাচ্চাদের অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করার উপায় 

শিশুদের অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করার পদ্ধতি সম্পর্কে জানার আগে চলুন আমরা জেনে নেই জন্ম নিবন্ধন কি? এবং জন্ম নিবন্ধন করা কেন প্রয়োজন? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জন্ম নিবন্ধন হচ্ছে একজন নাগরিকের রাষ্ট্র কর্তৃক প্রথম আইনগত রাষ্ট্রীয় নাগরিক স্বীকৃতি।একটি শিশু জন্মের পর শিশুটির জন্ম নিবন্ধন করার মানে হল শিশুটিকে সরকার কর্তৃক আইনগত ভাবে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। ছোট বাচ্চাদের অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম নিচে বর্ণনা করা হলো

একজন মানুষ জাতীয় পরিচয় পত্র পাওয়ার আগ পর্যন্ত জন্ম নিবন্ধনটি ই তার জাতীয়  পরিচয় পত্রের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। তাহলে বুঝতেই পারছেন একটি শিশুর ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

এনআইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আগ পর্যন্ত একটি শিশুর ক্ষেত্রে এটি প্রথম এবং একমাত্র দেশের বৈধ নাগরিক প্রমাণের দলিল

শিশুর জন্ম নিবন্ধন করা কেন প্রয়োজন?

একটি শিশু বা বাচ্চা জন্ম হওয়ার পরপরই তার জন্ম নিবন্ধন করে ফেলা উচিৎ কেননা এ জন্ম নিবন্ধন  করার ফলে সরকারি ডাটাবেজে তার নামটি নিবন্ধন করা হয়। তবে 2006 সাল থেকে বাংলাদেশ জন্ম এবং মৃত্যু নিবন্ধন করা এটাকে আইন হিসেবে কার্যকর করা হয়।

একটি শিশু জন্ম হওয়ার 45 দিনের মধ্যে শিশুটির জন্ম নিবন্ধন করে ফেলা উচিত এবং আইন অনুযায়ী সেটি বাধ্যতামূলক।

 আরো পড়ুনঃ-অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য সংশোধন প্রক্রিয়া

যদি কোন বাচ্চার পিতা মাতা বাচ্চার জন্ম নিবন্ধন দুই বছরের মধ্যে না করে থাকে তাহলে সেই পিতা-মাতাকে জরিমানাও গুণতে হবে

যেহেতু জন্ম নিবন্ধন জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার আগ পর্যন্ত ব্যক্তি জাতীয়তা বহন করে তাই অনেক কাজেই ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় নিচে কিছু উদাহরণ হলঃ- 

ছোট বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম

ছোট বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন করার উপায় আর  প্রাপ্তবয়স্ক লোকের জন্ম নিবন্ধন করার উপায় একই রকম তবে বয়সের পার্থক্য অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন করার ক্ষেত্রে সরকারি ফি এর পার্থক্য হয়ে থাকে,পোস্টটি ভাল করে পড়ুন তাহলে সবকিছু বুঝতে পারবেন

জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম

এখন আসি  জন্ম নিবন্ধন কিভাবে করবেন সেই বিষয় নিয়ে জেনেনেই, জন্ম নিবন্ধন সাধারণত দুটি উপায় করা যায় একটি হলো অফলাইন সরোজমিনে উপস্থিত হয়ে  অন্যটি হলো অনলাইনে ঘরে বসে মোবাইলের মাধ্যমে

প্রথমে আমরা জন্ম নিবন্ধন করার যে পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব সেটি হচ্ছে অফলাইন বা সরোজমিনে উপস্থিত হয়ে জন্ম নিবন্ধন করার পদ্ধতি

আরো পড়ুনঃ-হারানো ভোটার আইডি কার্ড বের করার নিয়ম

বাংলাদেশের জন্ম নিবন্ধন করার প্রথম থেকে যে নিয়মটি চালু হচ্ছে সেটি হচ্ছে সরাসরি বা ব্যক্তি নিজে উপস্থিত থেকে তার জন্ম নিবন্ধন করা 

তবে বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় নাগরিক চাইলে ঘরে বসে  অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করে নিতে পারবে

অফলাইনে বাসর শরীরে উপস্থিতিতে জন্ম নিবন্ধন করার উপায়

অফলাইন এ  জন্ম নিবন্ধন করার প্রক্রিয়াটি আপনাদের পড়ার সুবিধার্থে কয়টি ভাগে বিভক্ত করে নিচে দেওয়া হল 

ধাপ ১-

প্রথমে আপনাকে জন্ম নিবন্ধন ফরম সংগ্রহ করতে হবে। জন্ম নিবন্ধন ফরম সংগ্রহ করার জন্য আপনি আপনার ঠিকানা অনুযায়ী  ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অথবা সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করতে পারেন

ধাপ ২-

এখন আপনার কাজ হলো ফরমটিতে সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করা

খেয়াল রাখবেন ফর্ম ফরম পূরণ করার সময় যেন কোনো রকম ভুল না হয় কেননা আপনি নিজে ফর্ম পুরন করার পর যদি ভুল হয় তাহলে সেই জন্য নিবন্ধন পুনরায় সংশোধন করতে গেলে খুব ঝামেলা পোহাতে হয়

এক সিম থেকে অন্য সিমে ব্যালেন্স ট্রান্সফার

ধাপ ৩-

ফরমটি পূরণ করা হয়ে গেলে এখন আপনি আপনার এলাকা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ে জমা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ করবেন।

ধাপ ৪-

জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ

ফরম জমা দেওয়ার সময় কর্মকর্তা কর্তৃক আপনাকে যে তুই কোন ভার্সিটির দেওয়া হবে সেটির মধ্যে দিন তারিখ উল্লেখ থাকবে এবং নির্দিষ্ট দিনে আপনাকে পুনরায় গিয়ে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করতে হবে।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করার উপায়

বাংলাদেশ 2006 সাল থেকে জন্ম এবং মৃত্যু সনদ তৈরি করার পদ্ধতি শুরু হলেও তখন ছিল অফলাইন বা হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন সনদ
কিন্তু বর্তমানে অর্থাৎ 2010 সাল থেকে অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসে জন্ম নিবন্ধন করা সম্ভব হচ্ছে।

আপনাদের পড়ার সুবিধার্থে শিশুদের জন্য অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করার পদ্ধতি বা প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের জন্ম নিবন্ধন করার পদ্ধতি কয়েকটি ধাপে লেখা হয়েছে,

ধাপ ১-
প্রথম ধাপে আপনাকে জন্ম নিবন্ধন রেজিস্ট্রেশন এর সাইটে প্রবেশ করতে হবে
ধাপ ২-
তারপর জন্ম নিবন্ধন রেজিস্ট্রেশন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর সেখানে একটি একাউন্ট খুলতে হবে
ধাপ ৩-
জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন ফরম ফিলাপ করতে হবে
ধাপ ৪-
আপনি কোন এলাকা বা ঠিকানা থেকে জন্ম সনদপত্র সংগ্রহ করতে চান সেই অনুযায়ী  কার্যালয় করুন বাছাই করুন আপনি চাইলে আপনার বর্তমান ঠিকানা অথবা স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করতে পারেন।
ধাপ ৫-
জন্ম নিবন্ধন করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল তথ্য দিয়ে আপনার কলটি গ্রহণ করতে হবে কোথায় যেন ভুল না হয় এবং সকল তথ্য আপনার আপনার ব্যক্তিগত তথ্য পিতা-মাতা তথ্য এবং স্থায়ী ঠিকানা সব কিছু সঠিকভাবে পূরণ করা হয়ে গেলে করুণা যাচাই করে ফোনটি জমা দিন।


ধাপ ৬-
সবকিছু  সঠিক থাকলে এবং আপনি যাদের করার প্রয়োজন আপনাকে একটি নম্বর দে নম্বর দিয়ে অনলাইনে আপনার আবেদন এর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবেন।
ধাপ ৭-
বাংলায় জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করার 15 দিন হয়ে গেলে আপনি প্রয়োজনীয় তথ্য বা কাগজপত্র নির্ধারিত কার্যালয়ে গিযে আপনি আপনার জন্ম সনদ সংগ্রহ করতে পারেন

শিশুদের / বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন কোথা থেকে করবো?

শিশু হত্যা প্রাপ্তবয়স্ক যে কারো জন্ম নিবন্ধন করার ক্ষেত্রে তার স্থান কাল ভেদে অর্থাৎ তার ঠিকানা অনুযায়ে নিচে উল্লেখিত স্থানগুলোর যেকোনটিতে যোগাযোগ করে সেখান থেকে জন্ম নিবন্ধন করতে হবে।

  1. ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা।
  2. পৌরসভার মেয়র বা তার দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কাউন্সিলর।
  3. সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বা তার থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর।
  4. ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট বা তার থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা।
  5. বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস
আগেই বলেছিলাম শিশুদের জন্ম নিবন্ধন করা আর প্রাপ্তবয়স্কদের নিবন্ধন করার পদ্ধতি একই
তবে পার্থক্য শুধু জন্ম নিবন্ধন করার ক্ষেত্রে খরচের

জন্ম নিবন্ধন করতে কত টাকা লাগে-জন্ম নিবন্ধন ফি কত টাকা

এখন জেনে নেই জন্ম নিবন্ধন ফি সম্পর্কে
শিশুদের জন্ম নিবন্ধন করতে এবং প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন করতে ব্যক্তির বয়স অনুযায়ী খরচ এর পার্থক্য উঠানামা করে চলুন তাহলে জেনে নেই জন্ম নিবন্ধন করতে কত খরচ হয়।


বাংলাদেশের জন্ম নিবন্ধন করতে গেলে শিশুর জন্মের পর থেকেই 45 দিনে মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করলে সে ক্ষেত্রে কোন টাকার প্রয়োজন হবে না এবং 45 দিন থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত জন্ম নিবন্ধন করতে তাকে 25 টাকা ফি প্রদান করতে হবে এবং 5 বছরের উর্ধ্বে সকল নাগরিকের ক্ষেত্রে 50 টাকা করে ফি প্রদান করতে হবে

বিদেশে বা দূতাবাসে জন্ম নিবন্ধন

বিদেশে বা দূতাবাসে জন্ম নিবন্ধন করতে শূন্য থেকে 45 দিন পর্যন্ত যৌন মিলন করতে কোন টাকার প্রয়োজন হয় তবে 45 দিন থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত জন্ম নিবন্ধন করতে তাকে এক মার্কিন ডলার  ফি পরিশোধ করতে হবে এবং 5 বছরের বেশির ক্ষেত্রে এক ডলার খরচ হবে

শিশুর জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি ডকুমেন্ট বা কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়?

জন্ম নিবন্ধন করার জন্য শিশুর বয়স ব্যক্তির বয়সের উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র  পার্থক্য থাকে নিচে বয়স অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একটি তালিকা প্রকাশ করা হলো

শুন্য থেকে ৪৫ দিন বয়সী শিশুর জন্ম নিবন্ধনের জন্য

  • টিকার কার্ড
  • পিতা-মাতার অনলাইন জন্মনিবন্ধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র
  • বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারী ট্যাক্সের রশিদের হাল সনদ
  • আবেদনকারী/অভিভাবকের মোবাইল নম্বর
  • ফরমের সঙ্গে এক কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি

৪৬ দিন থেক ৫ বছর বয়সীদের জন্ম নিবন্ধন নিতে

  1. টিকার কার্ড/স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যয়নপত্র স্বাক্ষর ও সিলসহ প্যাডে হতে হবে
  2. বাচ্চাদের অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনবাচ্চাদের অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন
  3. পিতা-মাতার অনলাইন জন্মনিবন্ধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র
  4. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নসহ বিদ্যালয়ের প্রত্যয়নের সব প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট লাগবে
  5. বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারী ট্যাক্সের রশিদের হাল সনদ
  6. আবেদনকারী/অভিভাবকের মোবাইল নম্বর
  7. ফরমের সঙ্গে এক কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

বয়স ৫ বছরের বেশি হলে

  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র (পিএসসি/জেএসসি/এসএসসি) শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র না থাকলে সরকারি হাসপাতালের এমবিবিএস ডাক্তারের স্বাক্ষর ও সিলসহ প্রত্যয়ন সনদ এবং জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরমের ৭ এর ১ নং কলামের স্বাক্ষর ও সিল বাধ্যতামূলক।
  •  যাদের জন্ম ২০০১ সালের ১ জানুয়ারির পর তাদের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার অনলাইন জন্মনিবন্ধনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক
  • যাদের জন্ম ২০০১ সালের ১ জানুয়ারির আগে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক
  • যদি জন্ম ২০০১ সালের আগে হয় সেক্ষেত্রে পিতা-মাতা মৃত হলে মৃত্যু সনদ বাধ্যতামূলক
  • যাদের জন্ম ২০০১ সালের ১ জানুয়ারির পর তাদের পিতা-মাতা মৃত হলে প্রথমে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন গ্রহণ করার পর অনলাইন মৃত্যু নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করতে হবে। উভয় সনদ আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।
  • বাসার হোল্ডিং নম্বর ও চৌকিদারী ট্যাক্সের রশিদের হাল সন
  • আবেদনকারী/অভিভাবকের মোবাইল নম্বর
  • ফরমের সঙ্গে এক কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • আবেদনের সঙ্গে কাগজপত্র সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য/নারী সদস্যদের স্বাক্ষরসহ সিল বাধ্যতামূলক।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

প্রয়োজনীয় পোস্ট